জলভরা সন্দেশ রেসিপি / জলভরা তালশাঁস সন্দেশ রেসিপি / চিনিছাড়া জল

১৮১৮ সালে ভদ্রেশ্বরের ব্যানার্জি পরিবার বড় জমিদার বাড়ী নামে পরিচিত ছিল। ব্যানার্জি পরিবারের এক মেয়ের বিয়ে হয়েছিল বৈদ্যবাটির জমিদার বাড়ির ছেলের সাথে। প্রচলিত আছে জমাই ষষ্ঠীতে যখন মেয়ে ও জমাই ফিরে আসে তখন নতুন জামাইয়ের সঙ্গে মজা করার জন্য মেয়ের মা ও বোনেরা এক পরিকল্পনা করে আর সেই জন্যই ডাক পড়ে ময়রা সূর্য কুমার মোদকের আর তাকে বলা হয় কিছু নতুন আর মজার তৈরী করতে।অনেক মাথা ঘামিয়ে মোদক ও তার ছেলে মিলে তৈরী করেফেললো তালশাঁসের মত দেখতে এই মিষ্টিটি । জামাই ষষ্ঠীর দিন সেটি যথারীতি নতুন জামাইকে খেতেও দেওয়া হয়। জামাই শুকনো মিষ্টি ভেবে যেমনি না কামড় বসালেন মিষ্টি তে অমনি মিষ্টির ভিতর থেকে গোলাপ জলের সীরা বেরিয়ে এসে জামাই এর নতুন পাঞ্জাবিতে ছিটিয়ে গেলো আর তা দেখে পুরো জমিদার বাড়িতে হৈহৈ পড়ে গেলো। নতুন জামাই অবশ্য তাতে রাগ করেননি বরং উনি মোদককে ডেকে মোটা বকশিস দেন এবং তাকে বলেন তার তৈরী এই মিষ্টি অনেকেই নকল করবে কিন্তু যতই নকল করুকনা কেন তার তৈরী মিষ্টি সবসময় সামনের সারিতে দাড়িয়ে থাকবে। মোদকের তৈরী এই মিষ্টি কবিগুরুর ও খুব প্রিয় ছিল।
এইবার বলুন জামাই ষষ্ঠীতে এর থেকে ভালো রেসিপি কি আর হয় ??
জলভরা সন্দেশ রেসিপি / জলভরা তালশাঁস সন্দেশ রেসিপি / চিনিছাড়া জল
১৮১৮ সালে ভদ্রেশ্বরের ব্যানার্জি পরিবার বড় জমিদার বাড়ী নামে পরিচিত ছিল। ব্যানার্জি পরিবারের এক মেয়ের বিয়ে হয়েছিল বৈদ্যবাটির জমিদার বাড়ির ছেলের সাথে। প্রচলিত আছে জমাই ষষ্ঠীতে যখন মেয়ে ও জমাই ফিরে আসে তখন নতুন জামাইয়ের সঙ্গে মজা করার জন্য মেয়ের মা ও বোনেরা এক পরিকল্পনা করে আর সেই জন্যই ডাক পড়ে ময়রা সূর্য কুমার মোদকের আর তাকে বলা হয় কিছু নতুন আর মজার তৈরী করতে।অনেক মাথা ঘামিয়ে মোদক ও তার ছেলে মিলে তৈরী করেফেললো তালশাঁসের মত দেখতে এই মিষ্টিটি । জামাই ষষ্ঠীর দিন সেটি যথারীতি নতুন জামাইকে খেতেও দেওয়া হয়। জামাই শুকনো মিষ্টি ভেবে যেমনি না কামড় বসালেন মিষ্টি তে অমনি মিষ্টির ভিতর থেকে গোলাপ জলের সীরা বেরিয়ে এসে জামাই এর নতুন পাঞ্জাবিতে ছিটিয়ে গেলো আর তা দেখে পুরো জমিদার বাড়িতে হৈহৈ পড়ে গেলো। নতুন জামাই অবশ্য তাতে রাগ করেননি বরং উনি মোদককে ডেকে মোটা বকশিস দেন এবং তাকে বলেন তার তৈরী এই মিষ্টি অনেকেই নকল করবে কিন্তু যতই নকল করুকনা কেন তার তৈরী মিষ্টি সবসময় সামনের সারিতে দাড়িয়ে থাকবে। মোদকের তৈরী এই মিষ্টি কবিগুরুর ও খুব প্রিয় ছিল।
এইবার বলুন জামাই ষষ্ঠীতে এর থেকে ভালো রেসিপি কি আর হয় ??
রান্নার নির্দেশ
- 1
সবার প্রথমে একটি বাটিতে ১ টেবিল চামচ চালের গুঁড়ো ও ২ টেবিল চামচ দুধ(গরম করতে দেওয়া দুধের থেকেই নিলে হবে) দিয়ে মিশিয়ে রাইস ফ্লাওয়ার স্লুরি বানিয়ে নিতে হবে।
- 2
এরপর অন্য একটি বাটিতে ২ টেবিল চামচ ভিনিগার, ২ টেবিল চামচ জল মিশিয়ে নিতে হবে ।
- 3
তারপর একটি কড়াইতে ছানা তৈরী করার জন্য ১ লিটার দুধ গরম করতে দিতে হবে। গরম করতে করতেই আগে থেকে তৈরি করে রাখা রাইস ফ্লাওয়ার স্লারি দিয়ে মিশিয়ে নিতে হবে। এতে দুধ ত একটু ঘন হবে পাশাপাশি ছানা তৈরী হওয়ার পর সেটা নরম ও হবে। দুধটা ভালোমতো নাড়িয়ে মিশিয়ে নিন খেয়াল রাখবেন যাতে চালের গুঁড়োর দলা না পাকিয়ে যায়।এরপর ভিনিগার ও জলের মিশ্রণটা একটু একটু করে করে মিশিয়ে নাড়িয়ে নিতে হবে।
- 4
ছানা কেটে গেলে একটি সুতির কাপড়ের সাহায্যে ছানা ও জলটাকে আলাদা করে নিতে হবে। এরপর ঠাণ্ডা জল দিয়ে ছানাটা আবারও ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে যাতে ভিনিগারের গন্ধ না থেকে যায়। ছানার থেকে বাড়তি জল নিংড়ে নিয়ে কাপড়ে বেধে ৩০ মিনিট ঝুলিয়ে রেখে বাকি জলও ঝরিয়ে নিতে হবে।
- 5
তারপর বানিয়ে নিতে হবে জলভরার ভেতরের জল বা গোলাপজল মেশানো মিষ্টির সিরা তার জন্য একটা সসপ্যান এ চিনি জল নিয়ে সেটাকে ফুটিয়ে একটা সামান্য ঘন ও আঁঠালো পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে তার পর গ্যাস নিভিয়ে গোলাপ জল মিশিয়ে ঠাণ্ডা করতে রেখে দিতে হবে।
- 6
জল ঝড়ে গেলে ছানাটাকে কিছুক্ষণ হাত দিয়ে ভালোমত ঠেসে নিতে হবে যতক্ষন না ছানাটা মসৃণ হয়ে যাচ্ছে।
তারপর ছানায় ১০০ গ্রাম খোয়া দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে মেখে নিতে হবে। - 7
ছানা ঠাসা হয়ে গেলে সেটা একটা কড়াইয়ে নিয়ে, এলাচ গুঁড়ো, ঘি আর চিনি দিয়ে ভালো করে নেড়ে চেড়ে মিশিয়ে নিতে হবে। মিশ্রণটি ক্রমাগত নাড়তে থাকবেন নইলে কিন্তু ধরে যাবে।যেহেতু সুগার ফ্রী তাই আমি চিনির বদলে সুগারলাইট ব্যাবহার করেছি,২৫ গ্রাম সুগার লাইট কিন্তু ৫০ গ্রাম চিনির কাজ করে তো আপনারা সেটা নিজদের স্বাদ বুঝে দেবেন । যেহেতু এর দানা গুলো একটু মোটা তাই আমি এটা পিষে নিয়েছি ।
- 8
মিশ্রনটি যখন খানিকটা শুকনো হয়ে দলা পাকিয়ে যাবে আর কড়াই এর গা ছেড়ে দিয়ে উঠে আসবে তখন ছানার মিশ্রণটি কড়াই থেকে তুলে একটু ঠাণ্ডা করে নিতে হবে। হালকা ঠাণ্ডা হয়ে গেলে আবারও একবার ছানা টা ভালো করে মেখে নিতে হবে
- 9
ছানা মাখা হলে তালশ্বাসের ছাঁচে সামান্য ঘি মাখিয়ে,২টা কিসমিস,পেস্তা বা পেস্তার গুঁড়ো দিয়ে দিতে হবে ।ছানার সামান্য অংশ পুরে দিয়ে আঙ্গুল বা চামচের সাহায্যে ছোটো একটা গর্ত করে নিয়ে তাতে তৈরী করে রাখা গোলাপজল মেশানো মিষ্টির সিরা ভরে, তারপর আবার সন্দেশ ভরে ছাঁচের মুখটা বন্ধ করে শেষ বারের মতো ছাঁচটা ভালো মত চেপে একদম আলগা হতে আস্তে আস্তে সন্দেশ গুলো বের করেনিত হবে । ব্যাস তৈরী জলভরা সন্দেশ।
- 10
আর যদি ছাঁচ না থাকে তাহলেও মনখারাপ করার কিছু নেই আপনারা ছাঁচ ছাড়াও এই মিষ্টি তৈরী করেতে পারেন স্বাদ সেই একই হবে ।
আপনারা হাত দিয়ে মোদকের আকার দিয়ে তাতে ঠিক একই কায়দায় গোলাপজল মেশানো মিষ্টির সিরা ভরে নিতে পারেন বা প্যারার আকারে গড়ে আঙ্গুলের সাহায্যে মাঝবরাবর সামান্য গর্ত করে খানিকটা গোলাপজল মেশানো মিষ্টির সিরা দিয়ে দিলেই তৈরী । - 11
একদম নতুন স্বাদের ২ টো জলভরা সন্দেশের রেসিপির জন্য ক্লিক করুন এখানে । কাঁচা আমের ও পাকা আমের জলভরা সন্দেশ
লিঙ্ক করা রেসিপিগুলি
কুকস্ন্যাপগুলি
Keywords
Similar Recipes
More Recipes














মন্তব্যগুলি (4)